মাজহারুল ইসলাম।।দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরকেন্দ্রিক জীবনধারাকে ঘিরে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক।বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের একটি অংশের মধ্যে মাদকাসক্তি,অনৈতিক সম্পর্ক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে,আধুনিক নগরজীবন,অবাধ প্রযুক্তি ব্যবহার, পারিবারিক নজরদারির অভাব এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতির কারণে তরুণ সমাজের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ জীবনধারার দিকে ঝুঁকছে।আবাসিক হোটেল,রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন গোপন স্থানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অভিযোগও উঠে এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন,বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সমাজের ওপর চাপানো উচিত নয়। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই কঠোর পরিশ্রম করে উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে পরিবার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,নৈতিক অবক্ষয়ের পেছনে পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা,অর্থনৈতিক চাপ,সামাজিক বৈষম্য, মাদকচক্রের বিস্তার এবং অনলাইন সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।তারা বলেন,কেবল নারী শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা,নিয়মিত খোঁজখবর রাখা,ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি।
সচেতন মহলের অভিমত,উচ্চ শিক্ষা কখনোই সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ নয়; বরং সঠিক মূল্যবোধ ও সচেতনতার অভাবই সমাজে নানা সংকট তৈরি করছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
