নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে বারবার দেখা যাচ্ছে—ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কিছু সাংবাদিক এমন আচরণ করেন যেন সংবাদ জগত কেবল তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বুম ধরতে গেলেই চোখ রাঙানি,ধমক,অপমান,ঠেলে সরিয়ে দেওয়া—এসব এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।একই পেশার সহকর্মীর প্রতি এমন বৈষম্যমূলক ও অভদ্র আচরণ শুধু নিন্দনীয় নয়,এটি সাংবাদিক সমাজের ঐক্য ধ্বংসেরও বড় কারণ।
যে পেশার মূল শিক্ষা হওয়ার কথা পারস্পরিক সম্মান,সেখানে কিছু তথাকথিত “বড় সাংবাদিক” নতুন ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মীদের মানুষই মনে করেন না।অথচ বাস্তবতা হলো—আজ যারা সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমতা দেখাচ্ছেন,তারাও একদিন নতুন ছিলেন।তারাও ভুল করেছেন, ঠুস খেয়েছেন,সিনিয়রদের হাতে ধরে শিখেছেন।কেউ না কেউ সুযোগ দিয়েছিল বলেই আজ তারা পরিচিত মুখ।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন সেই মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। নতুনদের সুযোগ না দিয়ে,মাইক হাতে কথা বলতে না দিয়ে, সামনে দাঁড়াতে না দিয়ে এক ধরনের পেশাগত দাদাগিরি চালানো হচ্ছে।এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো সাংবাদিক সমাজ। কারণ একজন সাংবাদিক যখন আরেকজন সাংবাদিককে সম্মান দেয় না,তখন অপরাধীচক্রও সাহস পায় সাংবাদিকদের হুমকি দিতে,হামলা করতে,নির্যাতন চালাতে।
প্রশ্ন হলো—আপনার পাশে দাঁড়ানো নতুন সাংবাদিকটিকে যদি আজ আপনি শেখান,সহযোগিতা করেন,সামনে এগিয়ে দেন, তাহলে ক্ষতি কোথায়?বরং ভবিষ্যতে সেই মানুষটিই আপনার শক্তি হবে।আপনার বিপদে প্রতিবাদ করবে,হামলার বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত রাজত্ব নয়; এটি অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব।
অহংকার নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা।ধমক নয়,প্রয়োজন প্রশিক্ষণ।বৈষম্য নয়,প্রয়োজন সম্মান ও সহযোগিতা।নতুনদের সুযোগ দিন,শিখতে দিন,ভুল করতে দিন।কারণ পড়তে পড়তেই মানুষ উঠে দাঁড়ায়, ঠেকতে ঠেকতেই হাঁটতে শেখে,আর সংগ্রাম করতেই একদিন বড় হয়।
সাংবাদিকতার ভেতরের এই শ্রেণিবৈষম্য ও বুম-সন্ত্রাস বন্ধ না হলে পেশার মর্যাদা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।এখনই সময়—সহকর্মীকে প্রতিপক্ষ নয়,শক্তি হিসেবে দেখার।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
