নিজস্ব প্রতিবেদক।।রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ও আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।এ ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মী,সমর্থক ও বিভিন্ন মহল কঠোর সমালোচনা করেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ,দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসা সেবা, বার্ন ইউনিট ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।তাদের দাবি, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সামন্ত লাল সেনকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সিদ্ধান্তে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে।আওয়ামী লীগপন্থীদের ভাষ্য,এই অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার ফলে বহু দগ্ধ শিশু সময়মতো উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন,বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে,যার নেতিবাচক প্রভাব স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পড়ছে।আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দাবি, অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের সময় দুর্যোগ ও বড় ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত সমন্বিত চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে সেই সক্ষমতা দৃশ্যমান নয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির অর্থ ব্যবস্থাপনা,শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতের জবাবদিহিতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা বা মানবিক সংকটকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ সামনে আসছে। তারা বলছেন,এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় আবেগনির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত,তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন এবং দায়িত্ব নির্ধারণই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
