বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে নতুন বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক।।অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস,খেলাফত মজলিস ও হেফাজতের আলোচিত নেতা মামুনুল হক,জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখপাত্র হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও কনটেন্ট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউবভিত্তিক বিভিন্ন পেজে এসব ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর সত্যতা,প্রেক্ষাপট ও সম্পাদনা নিয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি বা স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।অনেক ক্ষেত্রেই ভিডিওর আংশিক অংশ কেটে বা বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচন ও ক্ষমতার প্রশ্ন সামনে চলে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন “ডিজিটাল রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে” পরিণত হয়েছে।
“চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তি”র অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব ভিডিওকে “পরিকল্পিত অপপ্রচার”, “চরিত্রহননের কৌশল” এবং “রাজনৈতিক সাইবার প্রচারণা” বলে দাবি করেছেন।তাঁদের অভিযোগ,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ ও রাজনৈতিক সুবিধা নিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন,দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে ব্যক্তি আক্রমণ,কেলেঙ্কারি ও ভাইরাল কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে,তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,“বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় নিয়ামক হয়ে উঠেছে।কোনো ভিডিও সত্য কি মিথ্যা,সেটি যাচাইয়ের আগেই তা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।এতে গণতান্ত্রিক বিতর্কের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের জন্যও চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন,অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে এ ধরনের ভাইরাল কনটেন্ট রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক দল, ইসলামী রাজনীতি ও নতুন রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দৃশ্যমান।
তাঁদের মতে,জনগণের বাস্তব সমস্যা—দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব,দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকট—আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে গিয়ে রাজনীতি ক্রমেই “ভিডিও নির্ভর উত্তেজনা”য় আটকে পড়ছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিপফেক প্রযুক্তি ও সম্পাদিত ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তাই কোনো ভিডিও বা তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এক সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন,“ভাইরাল হলেই সত্য হয় না।রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিডিও বিকৃতি এখন খুব সাধারণ বিষয়।জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।”
উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার,ইসলামী দল, বিরোধী জোট ও নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই দিন দিন তীব্র হচ্ছে।সেই লড়াইয়ের বড় অংশ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে।ফলে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব ও অপপ্রচারও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
বিশ্লেষকদের মতে,গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
