নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ‘তদবির’ ও ‘সুপারিশ বাণিজ্যের’ অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তাঁর সংসদীয় প্যাডে দেওয়া কিছু সুপারিশপত্র (ডিও লেটার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এর প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি সংসদ সদস্য পদ ও রাজনীতি—উভয়ই ছেড়ে দেবেন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মুখে ‘সিস্টেম চেঞ্জ’ বা ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বললেও কাজে তিনি সেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা ‘ডিও লেটার’ প্রথাকেই আঁকড়ে ধরেছেন।
যা ঘটেছে
গত কয়েক দিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর সই করা বেশ কিছু নথি জনসমক্ষে আসে। এর মধ্যে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লেখা একটি চিঠিতে দেবিদ্বারের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে একজনকে মনোনয়নের জোর সুপারিশ দেখা যায়। এ ছাড়া কিছু পুলিশ কর্মকর্তার পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রেও তাঁর পরোক্ষ ভূমিকার কথা শোনা যাচ্ছে।
বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চট্টগ্রামে কর্মরত কিছু বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ছাত্রনেতারা। তাঁদের অভিযোগ, যে প্রশাসনিক বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ সেই একই প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা দিচ্ছেন।
হাসনাতের চ্যালেঞ্জ ও জনমতের ব্যবধান
নিজের ফেসবুক পেজে ও বিভিন্ন সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেছেন, তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা নেননি। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি টাকা বা কোনো অবৈধ তদবিরের প্রমাণ দিতে পারলে আমি আজই এমপিত্ব ছেড়ে দেবো।”
তবে তাঁর এই বক্তব্যকে ‘চাতুর্যপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তদবির মানে শুধু টাকা নেওয়া নয়। নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে কোনো দপ্তরে চিঠি পাঠানোও একটি তদবির। তিনি যে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন, তাঁর নিজের সই করা ডিও লেটারগুলোই তো তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এর জন্য আলাদা করে প্রমাণের কী প্রয়োজন?”
সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, আওয়ামী লীগ আমলে সংসদ সদস্যরা যেভাবে ডিও লেটারের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর কর্মকাণ্ডে সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ছিল মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা, দলীয় বা ব্যক্তিগত সুপারিশে নয়।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে তরুণ নেতাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু শুরুতেই যদি তাঁরা এই ধরনের ‘তদবির সংস্কৃতিতে’ জড়িয়ে পড়েন এবং সেটিকে ডিফেন্ড করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন, তবে তা নতুন বাংলাদেশের যাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
এ বিষয়ে জানতে মো. হাসনাত আব্দুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
