নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা,সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে শুরু করে উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ধারাবাহিকতায় তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হলেও সে সময় বিদেশে থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের যাত্রা শুরু।
সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার ভূমিকা তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই মেয়াদে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়,যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
২০০৯ সাল থেকে টানা একাধিক মেয়াদে সরকার পরিচালনার মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেন।তার সরকারের সময় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল,কর্ণফুলী টানেলসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্য।
তবে তার শাসনামলে নির্বাচন প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করে যে,গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হয়েছে।এসব বিষয়ে সরকার বরাবরই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার যুক্তি তুলে ধরে আসছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে শেখ হাসিনা মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা পেয়েছেন।জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়ও তার ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন একদিকে উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.