নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকলেও,দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়।সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে—ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কি পরীক্ষার গার্ড কোনো পরীক্ষার্থীর খাতা জব্দ করতে পারেন?
আইনি কাঠামো কী বলে?
বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার আওতায়।এসব নীতিমালায় সাধারণত তিনটি স্তরের দায়িত্ব নির্ধারিত থাকে:
১. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা
মোবাইল কোর্ট আইন,২০০৯ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে অনিয়মের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।নকলের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি শাস্তি প্রদান,বহিষ্কার বা আইনি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।
২. কেন্দ্র সচিব (হল সুপার) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক
কেন্দ্র সচিব এবং কক্ষ পরিদর্শক (গার্ড) পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষা,নিয়ম মানানো এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করার দায়িত্বে থাকেন।তারা কোনো পরীক্ষার্থীকে নকল করতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করবেন,এবং প্রয়োজন হলে খাতা বা আলামত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য জব্দ করতে পারেন—তবে তা অবশ্যই নিয়ম মেনে, নথিভুক্ত করে এবং কেন্দ্র সচিবের অনুমোদনে করতে হয়।
৩. গার্ডের সীমাবদ্ধতা
গার্ড সরাসরি শাস্তি দিতে পারেন না,এবং ইচ্ছামতো খাতা “ছিনিয়ে নিয়ে” ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখা বৈধ নয়। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হতে পারে। তাদের কাজ হলো—ঘটনা নথিভুক্ত করা,কেন্দ্র সচিবকে জানানো এবং প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করা।
“খাতা ছিনিয়ে নেওয়া” কেন প্রশ্নবিদ্ধ?
আইন ও নীতিমালার দৃষ্টিতে কোনো আলামত জব্দ করতে হলে তা হতে হবে:
- স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত প্রক্রিয়ায়,
- কেন্দ্র সচিবের উপস্থিতি/অনুমোদনে,
- পরীক্ষার নিয়মাবলির আলোকে।
অন্যথায় এটি পরীক্ষার্থীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং পরবর্তীতে অভিযোগ বা আপিলের ভিত্তি তৈরি করে।
বাস্তব চিত্র
বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়,গার্ডরা নকল ঠেকাতে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খাতা নিয়ে নেন।তবে বিশেষজ্ঞদের মতে,এটি “ছিনিয়ে নেওয়া” নয়—বরং নিয়ম মেনে জব্দ হওয়া উচিত।নতুবা তা আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
করণীয় কী?
- গার্ড: নিয়ম মেনে প্রমাণ সংগ্রহ, রিপোর্ট ও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা।
- কেন্দ্র সচিব: সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেট ডাকানো।
- ম্যাজিস্ট্রেট: আইনানুগ ব্যবস্থা ও শাস্তি নিশ্চিত করা।
উপসংহার
পরীক্ষার হলে নকল প্রতিরোধে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়।তবে ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করলে তা আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে।ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা না থাকলেও,গার্ডদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—কিন্তু তা অবশ্যই বিধিমালার ভেতরে থেকেই পালন করতে হবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
