মেহেন্দিগঞ্জ(বরিশাল )প্রতিনিধি।।মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হলো দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।ক্লাস চলাকালীন আকস্মিক বজ্রপাতে দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ মোট ১৬ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ: মুহূর্তের আতঙ্কে রণক্ষেত্র স্কুল প্রাঙ্গণ
দুপুর সোয়া ২টা নাগাদ যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল, তখনই বিকট শব্দে দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওপর বজ্রপাত আঘাত হানে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বজ্রপাতের তীব্র আওয়াজ এবং শকওয়েভে শ্রেণীকক্ষের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা ফারুকুল ইসলামসহ ৮ জন শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিকভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অনেকে জ্ঞান হারান।
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও অনুরূপ বজ্রপাতের ঘটনায় আরও ৮ শিক্ষার্থী আহত হয়।স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্রুত তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল কাদের জানিয়েছেন:
দাদপুর স্কুলের ৮ জনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে কেউ আশঙ্কাজনক না হলেও বজ্রপাতের অভ্যন্তরীণ শারীরিক প্রভাব (Shock/Cardiac issues) পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (SBMCH) পাঠানো হতে পারে।
বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ: আমাদের স্কুলগুলো কি নিরাপদ?
এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি বড় ধরনের কিছু প্রশ্ন তুলে ধরছে:
১. বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার অভাব: বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলো বজ্রপাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মেহেন্দিগঞ্জের মতো এলাকায় স্কুল ভবনগুলোতে কেন পর্যাপ্ত ‘আর্থিং’ বা ‘লাইটেনিং অ্যারেস্টার’ (বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড) নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
২. শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক: স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বজ্রপাতের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা গণ-অজ্ঞান (Mass Fainting) হয়ে পড়েছে।এটি শিশুদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী আতঙ্ক বা ‘ট্রমা’ তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে যথাযথ কাউন্সিলিং প্রয়োজন।
৩. প্রশাসনের ভূমিকা: উপজেলা শিক্ষা অফিসার সতর্ক থাকার নির্দেশ দিলেও, মাঠ পর্যায়ে স্কুলগুলোতে বজ্রপাত নিরোধক প্রযুক্তি স্থাপনে কোনো বিশেষ বাজেট বা পরিকল্পনা আছে কি না,তা নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা হওয়া প্রয়োজন।বছরের এই সময়ে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলগুলোতে মহড়া (Drill) এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
উপসংহার:
বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃত।মেহেন্দিগঞ্জের এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে,কেবল ‘সতর্ক থাকতে বলা’ যথেষ্ট নয়।স্কুলগুলোতে আধুনিক বজ্রপাত নিরোধক প্রযুক্তি স্থাপন না করলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যাবে।আহত শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে এলাকাবাসী।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
