নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮০৯) উন্নয়ন প্রকল্পে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।দীর্ঘসূত্রতা ও ধীরগতির কারণে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ৫০২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে জুন ২০৩০ পর্যন্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের পটভূমি
বরিশালের চর কাউয়া থেকে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৯ সালে।শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৩০২ কোটি টাকা।লক্ষ্য ছিল সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসই করে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আনা।
একনেকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত
রোববার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে—
ব্যয় বৃদ্ধি: ৩০২ কোটি থেকে বেড়ে ৫০২ কোটি টাকা
সময় বৃদ্ধি: একাধিক দফা বিলম্বের পর নতুন সময়সীমা জুন ২০৩০
তদন্ত: প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়ানোর কারণ খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন।
কেন বাড়ছে সময় ও ব্যয়?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা
নকশা পরিবর্তন
নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি
প্রশাসনিক ধীরগতি
এসব কারণে প্রকল্পটি বারবার সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে।
ভোলার জন্য বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা
এই মহাসড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে আরও বড় প্রকল্প এগোচ্ছে—
ভোলা-বরিশাল সেতু:
প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (২০২২-২০২৪) শেষ হয়েছে।বর্তমানে এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের দীর্ঘতম সেতু হতে পারে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি:
ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়নের সম্ভাবনা বাড়ছে
প্রাণ-আরএফএল ও উর্মি গ্রুপসহ বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ।
ভোলা-ঢাকা গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের সমীক্ষা চলমান।
সামগ্রিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে,এন-৮০৯ মহাসড়ক ও প্রস্তাবিত সেতু বাস্তবায়িত হলে—
ভোলা সরাসরি জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে।
যাতায়াত সময় ও খরচ কমবে।
শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়বে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি আসবে।
তবে বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
