নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নে ১০ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে পাশবিক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলার হারুন রাড়ির বাগান সংলগ্ন এলাকায় এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আইনি প্রেক্ষাপট:
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী,অভিযুক্ত আরিফ ফরাজি (পিতা: আব্দুর রব ফরাজি) রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটিকে একা পেয়ে বলপূর্বক পার্শ্ববর্তী বাগানে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।শিশুর আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আইনজীবীদের মতে,এই অপরাধটি **নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ (সংশোধিত ২০২০)-এর ধারা ৯(১)এর অধীনে একটি মারাত্মক অপরাধ।এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য
ভুক্তভোগীর বোন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তানজিলা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
> “আমার বোনকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই জঘন্য কাজ করা হয়েছে।আমরা প্রশাসনের কাছে এর কঠোর বিচার চাই। আমরা চাই না আর কোনো বোন বা শিশু এভাবে নির্যাতনের শিকার হোক।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আলিমাবাদ ইউনিয়নে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল ও বাবুল মিঝি এই নেক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন,এটি কেবল একটি অপরাধ নয়,বরং সামাজিক নিরাপত্তার চরম অবক্ষয়।তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আইনি বিশ্লেষণ ও প্রশাসনের ভূমিকা:
মামলা দায়ের:ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।পুলিশি এজাহার (FIR) নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার অভিযান:অভিযুক্ত আরিফ ফরাজি বর্তমানে পলাতক। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন যেন তাকে অবিলম্বে **দণ্ডবিধি (Penal Code)** এবং **নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের** আওতায় গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া না গেলেও,আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীকে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
