নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে সরকারি চাকুরিজীবীর সংখ্যা বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। অনুমোদিত পদের চেয়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য থাকলেও,যারা কর্মরত আছেন, বিয়ের বাজারে তাদের চাহিদা আকাশচুম্বী।অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে উচ্চবেতন পাওয়া সত্ত্বেও পাত্র হিসেবে অবহেলার শিকার হচ্ছেন একটি বড় অংশ। সমাজবিজ্ঞানী ও ভুক্তভোগীদের মতে,এর পেছনে কাজ করছে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার এক জটিল সমীকরণ।
সরকারি চাকুরিজীবীদের আধিপত্যের কারণ:
২০২৪-২৬ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়,সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের বেশি।এই বিশাল সংখ্যক জনবলকে কেন্দ্র করে এক অদৃশ্য ‘ম্যারেজ মার্কেট’ তৈরি হয়েছে।
নিশ্চিত ভবিষ্যৎ:সরকারি চাকরিতে উৎসব ভাতা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং সবশেষে পেনশনের সুবিধা থাকে।পাত্রীপক্ষ মনে করে,স্বামী অসুস্থ হলে বা মারা গেলেও পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে জীবন চলে যাবে।
আর্থিক সচ্ছলতা ও ঋণ সুবিধা:বর্তমান পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক থেকে গৃহনির্মাণ বা গাড়ি কেনার জন্য অত্যন্ত স্বল্প সুদে বড় অংকের ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়,যা একজন বেসরকারি চাকুরিজীবীর জন্য প্রায় অসম্ভব।
সামাজিক প্রভাব:গ্রাম বা মফস্বল এমনকি শহরেও সরকারি ‘অফিসার’ পদের সাথে একটি প্রশাসনিক ক্ষমতা বা প্রভাব যুক্ত থাকে,যা আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়।
বেসরকারি চাকুরে ও ব্যবসায়ীদের ‘অবহেলার’ নেপথ্যে
বিপরীত চিত্রে,বেসরকারি খাতের চাকুরিজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ বেতন পেলেও বিয়ের পিঁড়িতে বসার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
১.চাকরির অনিশ্চয়তা:অর্থনৈতিক মন্দা বা করপোরেট পলিসির কারণে যেকোনো সময় চাকরি হারানোর ভয় থাকে।এই ‘ভঙ্গুর নিরাপত্তা’র কারণে অভিভাবকরা তাদের মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত থাকেন।
২.অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা:বেসরকারি চাকুরিজীবীদের ব্যক্তিগত সময় বা ফ্যামিলি টাইম কম থাকে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আয়ের ওঠানামা অভিভাবক মহলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
৩.বিমূর্ত অবসর:বেসরকারি খাতে পেনশন সুবিধা না থাকায় বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ভয় পরিবারগুলোর মনে গেঁথে আছে।
বর্তমান পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা
প্রাপ্ত তথ্যমতে,চাকুরিতে যোগদানের বয়সসীমা বিবেচনায় সরকারি চাকুরিজীবীদের একটি বড় অংশই তরুণ। অথচ এই তরুণদের মধ্যে যারা বেসরকারি খাতে বা ফ্রিল্যান্সিং করে প্রচুর আয় করছেন,তারা সামাজিক স্বীকৃতির দৌড়ে পিছিয়ে আছেন।বি
শেষজ্ঞের অভিমত:
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,“আমাদের সমাজ এখনো ‘নিরাপত্তা’ বলতে সরকারি সিলমোহর বোঝে।যতক্ষণ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে চাকরির নিরাপত্তা (Job Security) এবং পেনশন প্রথা চালু না হবে, ততক্ষণ বিয়ের বাজারে এই বৈষম্য দূর হবে না।”
শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখের কাছাকাছি হওয়ায় ভবিষ্যতে এই প্রতিযোগিতার হার আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ফলে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কেবল ‘সরকারি তকমা’ না থাকায় অনেক যুবক পারিবারিকভাবে অবহেলার শিকার হচ্ছেন।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
