শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি।।গাজীপুরের শ্রীপুরে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ আবিদ হোসেনের বিরুদ্ধে।তবে এই অপহরণ মামলার সমান্তরালে অন্য একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে—যা হলো দিনের আলোতে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ ঘরে ঢুকে ভাঙচুর ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করার ঘটনা।
১. মূল অপরাধ: শিশু অপহরণ ও জালিয়াতি (মেয়ের পরিবারের অবস্থান):
মেয়ের পরিবারের দেওয়া জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী ভিকটিম একজন শিশু।
অপহরণের দায়:
আবিদ হোসেন ও তার পরিবার একজন শিশুকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে গুরুতর অপরাধ করেছেন।
*আইনি জালিয়াত:১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ‘বিবাহের ঘোষণা’ দেওয়া একটি বড় ধরণের আইনি প্রতারণা।এর মাধ্যমে তারা শিশু আইন ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
দাবি:সরকারের উচিত দ্রুত এই অপহরণকারী চক্রকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া,যাতে কোনো শিশুর শৈশব এভাবে নষ্ট না হয়।
২. দ্বিতীয় অভিযোগ: উদ্ধার অভিযানের নামে সহিংসতা (তদন্তের দাবি)
ঘটনার সময় “ফিল্মি স্টাইলে” ঘরে প্রবেশ,অস্ত্রের মুখে জিম্মি এবং ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
তদন্তের প্রয়োজনীয়তা:
ভিকটিম উদ্ধারের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলা উচিত।যদি সেখানে আসলেই বেআইনিভাবে অস্ত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে,তবে অভিযুক্ত পক্ষকে (যিনি তথ্য দিয়েছেন বা নেতৃত্ব দিয়েছেন) জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
কেন খতিয়ে দেখা জরুরি:
আধুনিক রাষ্ট্রে পুলিশ বা প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া সাধারণ মানুষের হাতে অস্ত্রের প্রদর্শন আইনগতভাবে দণ্ডনীয়।এটি যদি সত্য হয়,তবে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির লক্ষণ।আর যদি মিথ্যা হয়,তবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি চূড়ান্ত বিশ্লেষণ ও আহ্বান
অপরাধীকে সাজা দিতে গিয়ে আমরা যেন নতুন কোনো অপরাধকে প্রশ্রয় না দিই।
১. প্রথম অগ্রাধিকার:দ্রুত ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Medical Test) করা এবং জবানবন্দি গ্রহণ করা।
২. গ্রেফতার: মূল অভিযুক্ত আবিদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯ ধারায়** মামলা রুজু করে তাদের গ্রেফতার নিশ্চিত করা।
৩.নিরপেক্ষ তদন্ত:স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও আইটি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ঐ দিনের “ফাঁকা গুলি ও ভাঙচুরের” অভিযোগটির সত্যতা যাচাই করাযদি অস্ত্র ও গুলির বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে ওই অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপসংহার:
মেয়ের পরিবার এখানে ভিকটিম এবং তাদের প্রতি পূর্ণ সহমর্মিতা থাকা উচিত।তবে সমাজের শান্তি রক্ষার স্বার্থে ইমাম বা অন্য কোনো পক্ষ যদি আইনের অপপ্রয়োগ করে থাকে,তবে সেটিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।আমরা আশা করি,গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও শ্রীপুর থানা পুলিশ কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার প্রতিটি ধাপ তদন্ত করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কাম্য।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
