নিজস্ব প্রতিবেদক।।কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।১০ বছর বয়সী জিম খাতুন,যে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর নানার বাড়িতে বড় হচ্ছিল,সেদিন স্কুলে গিয়েছিল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। উৎসবের আমেজ নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়া শিশুটি জানত না,খোদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চার দেয়ালের ভেতরেই তার জন্য ওত পেতে আছে এক পিশাচ।
ঘটনার ক্রমধারা:
নিখোঁজ ও উদ্বেগ:সারাদিন পেরিয়ে রাত হলেও জিম বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা ব্যাকুল হয়ে পড়েন।
পিয়নের সন্দেহজনক আচরণ:স্কুলের পিয়ন হামিদুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জিমকে দেখেনি বলে সাফ জানিয়ে দেয়।তবে তার অস্বাভাবিক আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
উদ্ধার অভিযান:স্থানীয়রা পিয়নের কাছ থেকে জোর করে চাবি নিয়ে স্কুলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ তল্লাশি করেন।সেখানে মুখ টেপ দিয়ে প্যাঁচানো ও অচেতন অবস্থায় জিমকে উদ্ধার করা হয়।
কঠোর বিশ্লেষণ: যেখানে রক্ষকই ভক্ষক
এই ঘটনাটি আমাদের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার কয়েকটি অন্ধকার দিক উন্মোচিত করে:
১. প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা
একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেখানে শত শত ছাত্রছাত্রী যাতায়াত করে, সেখানে দিনের আলোতে একজন কর্মচারী একটি শিশুকে আটকে রেখে এমন জঘন্য কাজ করার সাহস পায় কীভাবে?এটি সরাসরি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন আর শিশুদের জন্য ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে গণ্য হতে পারছে না।
২. বিকৃত মানসিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়
পিয়ন হামিদুল ইসলামের এই অপরাধ কেবল শারীরিক নয়,এটি একটি চরম মানসিক বিকৃতির বহিঃপ্রকাশ। একজন ১০ বছরের শিশুর ওপর এমন পৈশাচিক আচরণ প্রমাণ করে যে,সমাজে অপরাধীদের মধ্যে আইনের শাসনের কোনো ভয় অবশিষ্ট নেই।
৩. ভিক্টিম ব্লেমিং ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি**
আপনার প্রশ্নে উঠে আসা “মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়া কি অপরাধ?”—এই হাহাকারটি মূলত আমাদের বিচার ব্যবস্থার ধীরগতির প্রতিফলন।যখনই এমন কোনো ঘটনা ঘটে,তখন অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি ওঠে, কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক সময় বিচার বাধাগ্রস্ত হয়।
যে স্কুল হওয়ার কথা ছিল নিরাপদ দুর্গ,সেখানে পিয়নের পৈশাচিক লালসা একটি শিশুর শৈশবকে ধ্বংস করে দিয়েছে।এটি কেবল একটি ধর্ষণ নয়,এটি পুরো সমাজের নৈতিক পরাজয়।”**
জরুরি দাবি ও করণীয়:
১.দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল:অপরাধী হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক (মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন) শাস্তি প্রদান করা।
২.নিয়োগে সতর্কতা:শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের আগে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড এবং চারিত্রিক সনদ কঠোরভাবে যাচাই করা।
৩.সিসিটিভি ও নিরাপত্তা:প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করিডোর এবং নির্জন এলাকাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা।
৪.কাউন্সেলিং:*ভুক্তভোগী শিশু জিমের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
উপসংহার:জিম বেঁচে আছে, কিন্তু যে ট্রমা সে বয়ে বেড়াবে তা বর্ণনাতীত।রাষ্ট্র ও সমাজকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে মেয়ে হয়ে জন্মানো অপরাধ নয়,বরং অপরাধীর জন্য এই দেশে কোনো জায়গা নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে ছত্রগাছা স্কুলের মতো ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.