মাজহারুল ইসলাম ।।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে কেবল পাকিস্তানই হারেনি,পরাজিত হয়েছিল তাদের প্রধান মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, সেই ঐতিহাসিক পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে আসছে ওয়াশিংটন।যার সর্বশেষ এবং ভয়াবহতম অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের তথাকথিত ছাত্র আন্দোলন বা ‘জুলাই সন্ত্রাস’কে।
ইতিহাসের পাতায় মার্কিন শত্রুতা: ৭১ থেকে ৭৫:
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিনীদের বাংলাদেশ বিরোধী অবস্থান নতুন কিছু নয়।
সপ্তম নৌবহর ও ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ:
একাত্তরে বাঙালির বিজয় রুখতে সপ্তম নৌবহর পাঠানো থেকে শুরু করে ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে খাদ্যবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে কোটি মানুষকে অনাহারে মারার নেপথ্যে ছিল মার্কিন কূটনীতি।
১৫ই আগস্ট:** ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পেছনেও মার্কিন মদদপুষ্ট এদেশীয় কিছু ‘পালিত কুলাঙ্গার’ কাজ করেছিল বলে দৃঢ় বিশ্বাস আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করা।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও গ্রেনেড হামলা
২০০১ সালের নির্বাচনে রাত ২টা ১৩ মিনিটে তড়িঘড়ি করে বিএনপি-জামায়াতকে বিজয়ী ঘোষণা করাকে মার্কিন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর অংশ হিসেবে দেখা হয়।এরপর শুরু হয় সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন।২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা ছিল সেই ধারাবাহিক চক্রান্তেরই অংশ, যেখানে তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও বিদেশি মদদ ছিল বলে দাবি করা হয়।
জুলাই ২০২৪: পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞের ১৮ মাস
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি,২০১৮ সাল থেকেই শেখ হাসিনাকে হত্যার নতুন ছক তৈরি হয়। মার্কিন অর্থায়নে বিভিন্ন ইউটিউবার, তথাকথিত এক্টিভিস্ট এবং উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে লেলিয়ে দেওয়া হয় অপপ্রচারের জন্য।
৭.৬২ বুলেটের রহস্য:
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে ৭.৬২ বুলেটের ব্যবহার হয়েছে, যা পুলিশের অস্ত্র নয়।এই হত্যাকাণ্ডের দায় সুকৌশলে শেখ হাসিনার ওপর চাপিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থাপনা ও প্রাণহানি:
৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে ৩২২৬ জন পুলিশ সদস্য এবং ১০ হাজারের বেশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।দেশের শিল্প কারখানা,গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করার ঘটনাকে ‘জুলাই সন্ত্রাসীদের’ পূর্বপরিকল্পিত ছক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান বাস্তবতা:উন্নয়নের ধ্বংসস্তূপ?শে
শেখ হাসিনা ১৭ বছরে যে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন, তা গত কয়েক মাসে এক অস্থির জনপদে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও স্বাস্থ্য খাত আজ ধ্বংসের মুখে।
১. আইন-শৃঙ্খলার অবনতি:বর্তমানে দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগীদের চাঁদাবাজি, গুম ও হত্যার মহোৎসব চলছে।
২.নিরাপত্তাহীন জনজীবন:সাধারণ মানুষ ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখার মাধ্যমে দেশকে এক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
উপসংহার: দেশ কি তবে জাহান্নামের পথে?
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘যোগ্যতাহীন এবং ভোগবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সচেতন মহল বলছে, মার্কিন প্রভুদের নির্দেশ মানতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত আজ দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুফল যতটুকু অবশিষ্ট আছে,মানুষ কেবল সেটুকুর ওপর ভর করেই বেঁচে আছে।কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে মোড় নিচ্ছে,তাতে দেশবাসী শঙ্কিত—কবে শেষ হবে এই লাঞ্ছিত জীবন?নাকি মার্কিন-জামায়াত চক্রের এই নীল নকশা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে এদেশের মেহনতি মানুষকে?
এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের দাবি ও সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে।*
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.