নিজস্ব প্রতিবেদক।।১৫ বছর বয়সী সানজিদা, যার জীবন কাটার কথা ছিল বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে,সে আজ রাজধানীর জিয়া উদ্যানে পানি বিক্রি করছে।ভাইরাল হওয়া তথ্য অনুযায়ী,এই অল্প বয়সেই সে ৫টি বিবাহের শিকার হয়েছে।দারিদ্র্য,শিক্ষার অভাব এবং আইনি শিথিলতার সুযোগ নিয়ে কীভাবে একটি শিশুর জীবন তছনছ হতে পারে, সানজিদা তার জীবন্ত উদাহরণ।
১. আইনি ব্যাখ্যা: কেন এটি অপরাধ?
বাংলাদেশের “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর অনুযায়ী:
বিবাহের অযোগ্যতা:১৮ বছরের নিচে যেকোনো মেয়ের বিবাহ “বাল্যবিবাহ” হিসেবে গণ্য।সানজিদার বয়স ১৫ বছর হওয়ায় তার প্রতিটি বিবাহই আইনত অবৈধ ও বাতিলযোগ্য।
ধর্ষণ হিসেবে গণ্য:
বাংলাদেশের আইন স্পষ্ট করে বলে যে,১৬ বছরের নিচে কোনো কিশোরীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে,তাতে তার “সম্মতি” থাকলেও তা “শিশু ধর্ষণ” হিসেবে বিচার্য হবে। অর্থাৎ,সানজিদাকে যারা বিয়ে করেছে,তারা প্রত্যেকেই আইনি দৃষ্টিতে অপরাধী।
২. ৫টি বিবাহ যেভাবে সম্ভব হলো (পদ্ধতিগত ত্রুটি)
একটি শিশুর ৫টি বিয়ে হওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ দায়ী হতে পারে:
জন্মসনদ জালিয়াতি:অধিকাংশ বাল্যবিবাহে কাজী বা অভিভাবকরা বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করেন।
হলফনামা (Affidavit):অনেক ক্ষেত্রে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ের ভুয়া কাগজ তৈরি করা হয়,যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
সামাজিক উদাসীনতা:
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রতিবেশীরা যখন নীরব থাকেন,তখনই অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।
৩. জজ সাহেব বা আদালতের ভূমিকা
১৬ বছরের আগে কোনো জজ সাহেবও বিবাহের আদেশ দিতে পারেন না।বিশেষ বিধান অনুযায়ীও নূন্যতম ১৬ বছর এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক।সানজিদার ক্ষেত্রে যদি কোনো আইনি নথিপত্র তৈরি করা হয়ে থাকে,তবে তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আইনি প্রতিকার ও বর্তমান অবস্থান
বর্তমান অবস্থা ও করণীয়
ভিকটিমের সুরক্ষা:সানজিদা যেহেতু এখনো শিশু (১৮-এর নিচে),তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সেফ হোমে রাখা এবং মানসিক কাউন্সিলিং প্রয়োজন।
অপরাধীদের শাস্তি:সানজিদার অভিভাবকদের পাশাপাশি ওই ৫ স্বামী এবং বিয়ে পড়ানো কাজীদের বিরুদ্ধে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন” ও “বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে” মামলা হওয়া জরুরি।
হাইকোর্টের নির্দেশনা:হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন যে,বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে জন্মসনদ কঠোরভাবে যাচাই করতে হবে এবং জালিয়াতি ধরা পড়লে সরাসরি ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
উপসংহার
জিয়া উদ্যানে পানি বিক্রি করা সানজিদার এই ভাইরাল ভিডিও কেবল একটি গল্প নয়,বরং এটি আমাদের সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার একটি বড় ক্ষত।দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে একটি শিশুকে যেভাবে বিবাহের নামে বারবার নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে,তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন (ইউএনও এবং পুলিশ) চাইলেই এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
**জরুরি সহায়তায়:** শিশু অধিকার লঙ্ঘিত হতে দেখলে বা বাল্যবিবাহ রোধে সরাসরি **১০৯** (নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল) বা **৯৯৯** নম্বরে যোগাযোগ করুন।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.