নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম **’সিএসবি নিউজ ইউএসএ’ (CSB News USA)** তাদের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে,বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশিংটন **৩২৫ মিলিয়ন ডলার** (প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার) ব্যয় করেছে।
“‘দ্য পেপার ট্রেইল: হাউ ওয়াশিংটন স্পেন্ট ওভার ৩২৫ মিলিয়ন ডিসম্যান্টলিং বাংলাদেশ’স ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট’”শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি শুক্রবার প্রকাশিত হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,নথিপত্রের যে ‘কাগজে প্রমাণ’ (Paper Trail) পাওয়া গেছে, তা কোনো ভুল তথ্য দিচ্ছে না।
নথিপত্রে যা পাওয়া গেছে:
সিএসবি নিউজ দাবি করেছে,তারা বিভিন্ন মার্কিন গ্র্যান্ট ডাটাবেজ,কংগ্রেসনাল টেস্টিমনি (কংগ্রেসের সাক্ষ্য) এবং ডিক্লাসিফাইড বা উন্মুক্ত করা প্রোগ্রাম রিভিউ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলো যখন বাংলাদেশের আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে ‘গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে প্রচার করছিল,তখন পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ট বা অনুদানগুলো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যপূরণে কাজ করছিল।
অর্থ ব্যয়ের প্রধান খাতসমূহ:
অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই বিশাল পরিমাণ অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে তিনটি প্রধান স্তরে:
এনজিও ও নাগরিক সমাজ: স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ান তৈরি এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
অস্বাভাবিক অর্থ প্রবাহ:২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশে এই অর্থ প্রবাহের গতি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
‘গণঅভ্যুত্থান’ নাকি ‘পরিকল্পিত প্রকল্প’?
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,এটি কেবল একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন ছিল না,বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং সুপরিকল্পিতভাবে অর্থায়ন করা একটি প্রকল্প। সিএসবি নিউজ বলছে,ওয়াশিংটনের এই বিনিয়োগ সরাসরি তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।২০২৪ সালের পরিবর্তনকে ‘জেনারেশন জেড’-এর বিপ্লব হিসেবে অভিহিত করা হলেও নতুন এই তথ্য সেই ধারণাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।তবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,যদি এই ৩২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের নথিপত্র সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির হস্তক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.