নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের ‘আলোকিত সংবাদ’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং ‘বরিশাল নিউজ টিভি’র সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিপন রানা ওরফে ‘ট্রলার রিপন’কে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ।চাঞ্চল্যকর বেল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।তবে এই গ্রেফতারের ঘটনা ছাপিয়ে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে পুলিশের একজন কর্মকর্তার অপেশাদার ডিজিটাল আচরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন।
মামলার প্রেক্ষাপট: দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
নিহত বেল্লাল হোসেন মূলত অভিযুক্ত রিপন রানার পত্রিকার অফিসের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।অভিযোগ রয়েছে,রিপন রানা ও তার সহযোগীরা বেল্লালকে দিয়ে নারী ও মাদক সরবরাহের মতো অনৈতিক কাজ করাতেন।
ঘটনার দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেল্লাল আহত হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়,যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়,বরং একটি **পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড**, যা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার নাটক দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই হত্যা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন এই বিতর্কিত সংবাদকর্মী।
পুলিশের ফেসবুক পোস্ট ও আইনি বিধি-নিষেধের লঙ্ঘন
গ্রেফতারের পর কোতয়ালি মডেল থানার একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে আসামির ছবি ও তথ্য দিয়ে ‘কট’ বা এ জাতীয় ব্যঙ্গাত্মক হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করে পোস্ট দেন। পুলিশ সদরদপ্তরের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
আইনি বিশ্লেষণ: কেন এই পোস্ট শৃঙ্খলা পরিপন্থী?
পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশিকা (২০২০):
পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জারিকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তিগত আইডিতে সরকারি কাজের প্রচার বা আসামিকে নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না যা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করে।
সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা:
‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’ অনুযায়ী,কোনো সরকারি কর্মকর্তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক সাফল্যের কৃতিত্ব ব্যক্তিগতভাবে প্রচার করতে পারেন না।
পেশাগত স্বচ্ছতা:
তদন্তাধীন মামলার আসামিকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেওয়া বা জনসমক্ষে উপহাস করা আইনত দণ্ডনীয় এবং এটি মানবাধিকারের পরিপন্থী।এটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
কঠোর সমালোচনা: “ডিজিটাল হিরোইজম” বনাম পেশাদারিত্ব
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,পুলিশের কাজ অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাইক-কমেন্ট’ কুড়ানো নয়।একজন সম্পাদক ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে পুলিশের এই **‘ডিজিটাল হিরোইজম’** বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
> “পুলিশের সাফল্য নির্ভর করে আদালতে অকাট্য সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপনের ওপর,ফেসবুকের ওয়ালে নয়।একজন সাব-ইন্সপেক্টর যখন সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ইনফ্লুয়েন্সারের মতো আচরণ করেন,তখন তিনি বাহিনীর চেইন অফ কমান্ড ও পেশাদারিত্বকে অবজ্ঞা করেন।”
>
বরিশালের সচেতন মহল মনে করছেন,পুলিশ সদরদপ্তরের উচিত অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া।অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হবে আইনানুযায়ী,কিন্তু পুলিশের আচরণ হতে হবে বিধিমালা অনুযায়ী মার্জিত ও পেশাদার।
**তথ্যসূত্র:**
* *পুলিশ সদরদপ্তরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা (২০২০)*
* *সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯*
* *বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান (PRB)*
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.