নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও পটুয়াখালীর বাউফল এলাকায় তেঁতুলিয়া এবং কালাবদর নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হলেও মাঠ পর্যায়ে এর সুফল পাওয়া নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।বিশেষ করে মেহেন্দিগঞ্জের শ্রীপুর ইউনিয়ন রক্ষায় ৭৩৯ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের ২ মাস পেরিয়ে গেলেও টেন্ডার আহ্বান না করায় বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার।
বিভ্রান্তি ও কর্মকর্তাদের নিরবতা
আজ বরিশাল জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে কালাবদর নদীর ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সেতু ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রাজিব আহসান।তবে অনুষ্ঠানের ব্যানারে ‘কালাবদর’ নদীর পরিবর্তে ‘তেঁতুলিয়া’ নদীর ভাঙন রোধ প্রকল্পের কথা উল্লেখ থাকায় উপস্থিত জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. খাইরুজ্জামান সুমন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অস্তিত্ব সংকটে শ্রীপুর ইউনিয়ন
২০১৫ সালে গঠিত ১৩ বর্গকিলোমিটারের শ্রীপুর ইউনিয়নটি বর্তমানে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে।কালাবদর নদীর পেটে চলে গেছে ইউনিয়নটির ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫টি।গত কয়েক বছরে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি,২২টি মসজিদ,৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে শ্রীপুর মহিষা ওহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী থেকে মাত্র ২০০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছে, ফলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে স্কুলে আসা কমিয়ে দিয়েছে।
প্রকল্পের বর্তমান চিত্র ও বরাদ্দ
তথ্য অনুযায়ী,তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে বাউফল ও বাকেরগঞ্জ এলাকায় ৭৫০ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে।আইডব্লিউএম (IWM)-এর সুপারিশে ৩৭.৫৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে,মেহেন্দিগঞ্জের জন্য বরাদ্দকৃত ৭৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে সিসি ব্লক ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বর্তমানে কেবল জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
আশ্বাস বনাম বাস্তবতা
সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (অব.) কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করে স্থায়ী বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—”সব আশ্বাস যেন বালির বাঁধ”। সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আঃ রাজ্জাকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিদর্শন করলেও কাজের ধীরগতিতে এলাকাবাসী হতাশ।
ভোলার সাথে সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রস্তাবিত তেঁতুলিয়া সেতু প্রকল্পটিও বর্তমানে পিপিপি ভিত্তিতে নীতিগত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দাবি ও উদ্বেগ
এলাকাবাসীর দাবি,শুধুমাত্র জিওব্যাগ ফেলে এই রাক্ষুসে নদী থামানো সম্ভব নয়।দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে সিসি ব্লক ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমেই শ্রীপুর ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.