নিজস্ব প্রতিবেদক।।নতুন সরকার গঠনের পরপরই বিদেশ সফরে যাওয়ার প্রচলিত ধারার বাইরে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শপথ গ্রহণের পর প্রায় সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশ সফরে যাননি তিনি,যা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতীতে দেখা গেছে,আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণত এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই প্রথম বিদেশ সফরে যেতেন।
২০২৪ সালে শপথের ৩৫ দিনের মাথায় তিনি জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেন।
এর আগে ২০১৯ সালে শপথের প্রায় একই সময়ের মধ্যে জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন।
২০০৯ সালেও সরকার গঠনের প্রায় দুই মাসের মধ্যে কাতার সফরের মাধ্যমে প্রথম বিদেশ সফর সম্পন্ন হয়েছিল।
সেই তুলনায় বর্তমান সরকার শুরুতেই সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম থেকেই বিদেশ সফরের পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এছাড়া, নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি ব্যয় কমাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।প্রাথমিকভাবে আগামী তিন মাস সরকারি খরচে বিদেশ সফর সীমিত বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন,বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন অভ্যন্তরীণ সুশাসনের প্রতি গুরুত্বের বার্তা দিচ্ছে,অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ তৈরি করছে।
তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে,দীর্ঘদিন বিদেশ সফর না করলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিতে পারে।তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.