মাজহারুল ইসলাম।।ভোলা ও বরিশালের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীর ওপর বড় সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আলোচনা চলমান থাকলেও,তার আগেই স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত কার্যকর সমাধানের দাবি উঠেছে স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,মাত্র ২ থেকে ৫ কোটি টাকার একটি ছোট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব সম্ভব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ভোলা-বরিশাল রুটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ৬ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এবং মাঝখানে একটি খাল, যেখানে কোনো সেতু নেই।বিশেষ করে ডাঃ ফাইজুল ইসলাম ও জহির খানের বাড়ির মধ্যবর্তী খালটি পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ৬ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকা করা এবং উক্ত খালের ওপর প্রায় ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক উন্নতি আসবে।একইসঙ্গে কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু করা গেলে ভোলা থেকে বরিশাল যাতায়াত সময় কমে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে,ফেরি চালু করা সম্ভব না হলেও,দুই নদীতে ২৫-৩০ মিনিটের খেয়া পারাপারের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা যেতে পারে।এতে শিক্ষার্থী,রোগী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
এলাকাবাসী আরও জানান,দীর্ঘদিন ধরে বড় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগছে।তাই আপাতত স্বল্প ব্যয়ের এই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে,জরুরি সেবা সহজ হবে এবং সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।তাদের মতে, “বড় প্রকল্পের অপেক্ষায় থেকে বছরের পর বছর দুর্ভোগে থাকার চেয়ে ছোট উদ্যোগেই এখন বড় স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।”
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন,আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে বড় প্রকল্পের পাশাপাশি এমন ক্ষুদ্র কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা দ্রুত জনসাধারণের উপকারে আসবে এবং ভবিষ্যৎ বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথও সুগম করবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.