নিজস্ব প্রতিবেদক।।ভোলা ও বরিশালের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে তেঁতুলিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বহুল প্রতীক্ষিত ভোলা–বরিশাল সেতুর নির্মাণ সময়সূচি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী বলেন,প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্মাণ শুরুর তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,ভোলা–বরিশাল সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার,যার মধ্যে ৪.৬৮ কিলোমিটার মূল সেতু এবং ৪.৯ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক থাকবে।প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা।
সেতুর নকশায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে সেতুর সঙ্গে ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৫০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।এছাড়া এটি পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অর্থায়ন ও নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রী জানান,২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।বর্তমানে এটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,সরকার ২০৩৩ সালের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।এ সেতু নির্মিত হলে ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে,যা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি,বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
উল্লেখ্য,২০১১ সাল থেকে ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও সমীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে এলেও এখনো পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.