যশোর প্রতিনিধি: যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৫) নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন, এহসান আহম্মেদ ফয়সাল নামে এক যুবক তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়াকাটায় নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে সোনিয়া আক্তার দিয়া বলেন, ২০১৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে গিয়ে বিয়ের আশ্বাসে হোটেলে রাত্রিযাপন করেন, যেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ফয়সাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ২০২৫ সালের ১৫ মে তিনি কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার পর ফয়সাল তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় ফয়সালের পিতা ও ভগ্নিপতি তাকে জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি ১১ সেপ্টেম্বর হত্যা চেষ্টা মামলা করেন বলেও জানান।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার ভাইকে পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। ফয়সালের ভগ্নিপতি আইয়াজ উদ্দিন রিপন বলেন, “এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।” তার দাবি, ওই নারী তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন এবং টাকা না পেয়ে এসব অভিযোগ তুলছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.