নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে,যা শিশুস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ।
শিশু জনসংখ্যা ও জন্মহার
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,২০২৫ সালে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী,দেশে ০ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ।তবে ২০২৬ সালের হালনাগাদ শিশু জনসংখ্যার সুনির্দিষ্ট সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
টিকাদানের নিম্ন হার উদ্বেগজনক
২০২৫ সালে হামের টিকার কভারেজ নেমে এসেছে ৫৬.২% থেকে ৫৭.২%-এ, যা গত ৮-৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।এর ফলে প্রায় ৪৪% শিশু টিকার বাইরে রয়ে গেছে।এছাড়া প্রতি বছর নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যায় প্রায় ১০% শিশু।
ভ্যাকসিন সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রায় ১০০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন করেছে।এর মধ্যে ৮৪২ কোটি টাকা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য এবং আলাদাভাবে ৬০৪ কোটি টাকা হামের টিকা কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
৫৬ জেলায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ
২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫৬টি জেলায় হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।৪ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫,৭৯২ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী,৩০ মার্চ পর্যন্ত ২,১৯০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
মৃত্যুর মর্মান্তিক চিত্র
সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মাত্র ১৯ দিনে অন্তত ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অন্য এক হিসাবে,চলতি বছরে ৩৮ জন শিশুর মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করে।
টিকা থাকলে ঝুঁকি কম
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,হামের টিকা নেওয়া থাকলে আক্রান্ত হলেও রোগের তীব্রতা ও মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.