নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোয়,তবে তা দীর্ঘমেয়াদে দলটির জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে,দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।সেই প্রেক্ষাপটে অনেক আওয়ামী লীগ সমর্থক,তীব্র মানসিক চাপ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও,একটি বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের বিবেচনায় বিএনপিকে ভোট দিয়েছিলেন—বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান ঠেকাতে।তবে এই সমর্থনকে স্থায়ী রাজনৈতিক স্থানান্তর হিসেবে দেখা ভুল হবে বলে তারা মনে করছেন।
তাদের ভাষ্য,আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলে এর সমর্থকগোষ্ঠী স্বাভাবিকভাবেই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।বরং এর ফলে একটি বড় ভোটব্যাংক নিষ্ক্রিয়,অনিশ্চিত কিংবা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ধাবিত হতে পারে।এতে করে রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব শক্তিও ক্ষয়িষ্ণু হতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,বাংলাদেশের রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবে দ্বিদলীয় ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।সেই ভারসাম্য ভেঙে দিলে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে,যা দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে।
এছাড়া তারা সতর্ক করে বলেন,কোনো বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক চর্চা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে।এতে করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সুস্থ ধারার পরিবর্তে সংঘাতমুখী হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে,বিশ্লেষকদের অভিমত—আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা বিএনপির জন্য কৌশলগত ভুল প্রমাণিত হতে পারে এবং এটি ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্তে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.