নিজস্ব প্রতিবেদক।।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় যে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়া হয়েছে,তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।সংবিধান স্থগিত না করে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ,বিপ্লবী সরকারের পরিবর্তে অন্তর্বর্তী কাঠামো গঠন এবং জাতীয় সরকার বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা—এসব সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একাধিক আইনি ও কৌশলগত বিবেচনা।
সংবিধান বহাল রেখে ১০৬ অনুচ্ছেদের ব্যবহার
বিশ্লেষকদের মতে,সংবিধান সম্পূর্ণ স্থগিত করা হলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি এবং সামরিক শাসনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।এ বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের কাছে রেফারেন্স পাঠান,যাতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে আইনি দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ প্রয়োগ করে অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেয় বলে জানা গেছে।এর ফলে সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক চুক্তি,প্রশাসনিক কার্যক্রম ও বিচারিক প্রক্রিয়াও সচল রাখা সম্ভব হয়।
বিপ্লবী সরকার নয়,অন্তর্বর্তী কাঠামো
অভ্যুত্থানের পর সরাসরি বিপ্লবী সরকার গঠনের পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়,ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করলে রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, যেখানে টেকনোক্র্যাট, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে,এ ধরনের কাঠামো রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রমকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
জাতীয় সরকার প্রশ্নে অচলাবস্থা
অভ্যুত্থানের পর জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাবকে দায়ী করা হচ্ছে।
বিভিন্ন দল সংস্কার বনাম দ্রুত নির্বাচন—এই দুই অগ্রাধিকারের মধ্যে বিভক্ত অবস্থানে রয়েছে।ফলে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ জটিল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া,অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে,রাজনৈতিক দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই নির্দলীয় কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি ও সামনে পথচলা
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় একটি অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে,যার মাধ্যমে সরকারের মেয়াদ,ক্ষমতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ তৈরি করা।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং জনআস্থার পুনর্গঠনের ওপর।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.