নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ও নদী সুরক্ষায় সরকারি উদ্যোগে ৭৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকার “সি-ব্লক ও বেঁড়িবাঁধ” প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে প্রায় দুই মাস আগে।কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নদী ভাঙনের ভয়াবহতা:
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর, চাঁদপুর ও শিয়ালকাঠি এলাকার নদীর ভাঙন প্রতি বছর বসন্ত ও বর্ষাকালে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, “প্রতি বছর নদী ভাঙার কারণে আমাদের ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসে।”
অধিকাংশ বয়স্ক কৃষক বলেন, “গত বছর নদীর ভাঙনে অন্তত ৫০ একর ধানক্ষেতি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমাদের জীবিকা প্রতি বছর বিপন্ন হচ্ছে।”
প্রকল্পের গুরুত্ব:
৭৩৯ কোটি ১০ লাখ টাকার সি-ব্লক ও বেঁড়িবাঁধ প্রকল্পটি মেহেন্দিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলগুলোতে নদী ভাঙন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কালাবদর নদীর ধার সংরক্ষণ, ফসলি জমি সুরক্ষা, সড়ক ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পের আওতায় নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় মাটি ভরাট, পাথর ও কংক্রিটের বেঁড়িবাঁধ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ:
সাধারণ মানুষ এবং কৃষকরা এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে প্রায় দুই মাস হলো, কিন্তু এখনও কোনো টেন্ডার বা বাস্তব কাজ শুরু হয়নি। যদি দেরি হয়, আমাদের জমি ও ঘরবাড়ি নদী গ্রাস করতে পারে।”
এক কৃষক আরও বলেন, “সরকারি ঘোষণা নিয়ে আমরা আশা করেছিলাম বর্ষার আগে কাজ শুরু হবে। কিন্তু সময় কেটে গেছে, প্রকল্প কার্যকর হয়নি।”
প্রশাসনের মন্তব্য:
স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। কিছু প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও নথিপত্রের অনুমোদনে সময় লেগেছে। আশা করছি খুব শিগগির টেন্ডার প্রকাশ করা হবে এবং নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে মেহেন্দিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের মানুষ নদী ভাঙনের ভয় থেকে মুক্তি পাবে এবং ফসলি জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।”
পুর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ:
মেহেন্দিগঞ্জে পূর্বেও নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন প্রকল্প চালু হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বেকায়দায় থাকা, টেন্ডার দেরি এবং বাজেট সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ কার্যকর হয়নি। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, একইভাবে এই ৭৩৯ কোটি টাকার সি-ব্লক প্রকল্পও যদি দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, নদী ভাঙন তাদের জীবন ও জীবিকা ধ্বংস করতে পারে।
উপসংহার:
মেহেন্দিগঞ্জের সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করছেন। প্রশাসনও জানাচ্ছে, প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, তবে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় উদ্বেগের মাত্রা বাড়ছে। দ্রুত টেন্ডার আহ্বান ও নির্মাণ কাজ শুরু হলে নদী ভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.