নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার পরিচালনার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান স্থগিত বা রহিত না করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সরকার গঠনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এই অনুচ্ছেদ মূলত রাষ্ট্রপতির পরামর্শ চাওয়ার ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত—এটি সরকার গঠনের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নয়।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোটের বৈধতা নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।অভিযোগ উঠেছে,সংবিধান নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এসব আয়োজন করা হয়েছে,যা সরাসরি সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার কেবলমাত্র সুপ্রিম কোর্টের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলেন,সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় যদি কোনো সংসদ গঠিত হয়,তবে সেই সংসদের বৈধতাও নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিকতা ওপর।ফলে সংসদ অধিবেশন চললেও তার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
“বিপ্লবী সরকার” শব্দবন্ধ ব্যবহার করেও বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে সংবিধানে এমন কোনো স্বীকৃতি না থাকায় বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে,সংবিধান বহাল রেখে তার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার এই দ্বৈত অবস্থান দেশে এক ধরনের সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যার সমাধান নির্ভর করছে বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.