বরিশাল প্রতিনিধি।।বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন মার্কেটের তৃতীয় তলায় বেল্লাল (২৮) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নানা আলোচনা ও অভিযোগের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বরিশাল টিভির স্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন পোর্টাল আলোকিত সংবাদ ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক-প্রকাশক পরিচয়ধারী সাংবাদিক রিপন রানা (ট্রলার রিপন)।
ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিপন রানা বলেন,“অফিসের সামনে বেলকনিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেল্লাল আহত হয়।আমরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং তার পরিবারের সদস্যদের ফোন দিয়ে খবর দিই। এটাই কি আমার অপরাধ? আমি কাউকেই দোষারোপ করছি না।ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে।নিহত ব্যক্তির শেষ ফোনকলের সময়ও যাচাই করা যেতে পারে।মেডিকেল রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত প্রকৃত কারণ জানা যাবে না।রিপোর্ট আসতে সময় লাগতে পারে।আমি সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন,বেল্লাল বিভিন্ন সময় মাদক ও নারী সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে।
রহস্যে ঘেরা বেল্লালের মৃত্যু
গত ৩ ডিসেম্বর সকালে বরিশাল নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটারখাল এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ওলিউল্লাহ শাহ মাজার সংলগ্ন একটি মার্কেটের তৃতীয় তলার কক্ষ থেকে বেল্লালের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
নিহত বেল্লাল বরিশাল সদর উপজেলার পশ্চিম চর আইচা গ্রামের আবদুল হকের ছেলে।তিনি পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও পোড়ার দাগ থাকায় শুরু থেকেই ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে সন্দেহ দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,যে কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেটি সাংবাদিক পরিচয়ধারী রিপন রানা ওরফে ট্রলার রিপনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, ঘটনার আগের রাতে ওই কক্ষে নারী-পুরুষের আনাগোনা ছিল।
কিছু সূত্রের দাবি,সেদিন রাতে সেখানে ইয়াবা সেবন ও পার্টির ঘটনা ঘটে এবং কোনো এক পর্যায়ে বেল্লালের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়।এরপর তাকে মারধর বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের বাবা আবদুল হক দাবি করেন,“আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।তার শরীরে এত আঘাতের চিহ্ন কেন?এটি কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে না।”
পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
এদিকে নিহতের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহান তৃণা নামে এক নারী অভিযোগ করেন,বেল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড,মাদক এবং কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের বিষয়টি তদন্তে সামনে আসা উচিত।
পুলিশের বক্তব্য
কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ওসি আল-মামুন উল ইসলাম বলেন,“মরদেহে আঘাত ও পোড়ার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়।ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক।সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।”
পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মায়া চৌধুরী (২৮), সাদিয়া (২৪) ও রানা হাওলাদার (৩৬) নামে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।তবে ঘটনার সময়ের অন্যতম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রিপন রানা দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে নতুন প্রশ্ন
বেল্লালের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।মরদেহের আঘাতের চিহ্ন, পোড়ার দাগ,সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা—সবকিছুই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে,মেডিকেল রিপোর্ট এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.