নিজস্ব প্রতিবেদক।।জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এর ভাষণ চলাকালীন জুতা উঁচিয়ে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণকে অনেকেই সংসদীয় শালীনতা,সাংবিধানিক শপথ ও আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করছেন।
সংসদ সূত্রে জানা যায়,রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী বেঞ্চের কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালে এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ জুতা উঁচিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কথিতভাবে ‘জুতাপেটা’ করার হুমকি দেন।বিষয়টি সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং পরে এটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সাংবিধানিক শপথ ও সংসদীয় রীতির প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে,বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফশিল অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন যে তারা সংবিধানের প্রতি আনুগত্য রাখবেন এবং ভীতি,অনুগ্রহ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।রাষ্ট্রপতির মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতি অবমাননাকর আচরণ সেই শপথের নৈতিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের ভেতরে শৃঙ্খলা, সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন এ ধরনের আচরণকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এবং স্পিকার চাইলে বিষয়টি সংসদীয় বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠাতে পারেন।
আইনি দৃষ্টিকোণ
আইনবিদদের মতে,সংসদের বাইরে একই ধরনের আচরণ ঘটলে তা দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন (Criminal Intimidation) বা আক্রমণের হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে সংসদের ভেতরের ঘটনায় সাধারণত সংসদীয় দায়মুক্তি বা পার্লামেন্টারি প্রিভিলেজ প্রযোজ্য হওয়ায় বিষয়টি প্রধানত সংসদের নিজস্ব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী স্পিকার চাইলে অভিযুক্ত সদস্যকে—
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংসদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার (সাসপেনশন)
বিষয়টি তদন্তের জন্য বিশেষাধিকার কমিটিতে পাঠানো
গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে কঠোর সংসদীয় তিরস্কার
—এর মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও অন্যরা বলছেন,রাষ্ট্রপতির প্রতি এমন হুমকি সংসদীয় গণতন্ত্রের সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা সরকারের নীতির সমালোচনা করা স্বাভাবিক হলেও শারীরিক হুমকি বা অপমানসূচক আচরণ সংসদীয় সংস্কৃতির জন্য অশুভ নজির তৈরি করতে পারে।
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে,সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান।এখানে যে আচরণ প্রদর্শিত হয় তা জনগণের কাছে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিফলন হয়ে ওঠে।ফলে রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বা দলীয় বিতর্ক নয়,বরং গণতান্ত্রিক শালীনতা ও সাংবিধানিক সংস্কৃতির প্রশ্নও উত্থাপন করে।
ঘটনার বিষয়ে সংসদের স্পিকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।তবে বিষয়টি নিয়ে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.