নিজস্ব প্রতিবেদক।।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন নাঈমকে ঘিরে পুরনো একটি নির্যাতনের ঘটনা আবারও আলোচনায় এসেছে।অভিযোগ রয়েছে,আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে তাকে থানায় নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়।এমনকি নিজেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দেওয়ার পরও তার মুখে আঘাত করা হয় এবং দাঁত তুলে ফেলার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়।সেই সময় ঘটনাটি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
অভিযোগের তীর ছিল তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা—এডিসি হারুনের দিকে।সমালোচকদের দাবি,তিনি তখন ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকেও ছাড় দেননি।এ ঘটনাকে অনেকে সেই সময় রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে ক্ষমতার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রশ্ন উঠেছে—তৎকালীন সময়ে পুলিশের এমন দুঃসাহসের উৎস কোথায় ছিল? কে বা কারা তাদের সেই ক্ষমতা দিয়েছিল? একজন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার দাঁত উপড়ে ফেলার মতো নির্যাতনের সাহস তারা কার ছত্রচ্ছায়ায় পেয়েছিল? একইসঙ্গে অভিযোগ রয়েছে,সে সময় বিভিন্ন ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’-এর ঘটনাও ঘটেছে।
সমালোচকরা বলছেন,রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেয়নি; বরং বহু ক্ষেত্রে দলটির নেতাকর্মীরাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার শিকার হয়েছেন।বরগুনায় এক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে,এক এএসপি আওয়ামী লীগের অফিসে ঢুকে স্থানীয় এমপির সামনেই ছাত্রলীগের অন্তত ১৬ জন নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন এবং ২১ জনকে গ্রেফতার করেন।এমনকি নির্বাচিত এমপিকেও আঙুল তুলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ ধরনের ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যদি ক্ষমতাসীন দলই নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে,তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ তখন কার হাতে ছিল?
অন্যদিকে সাম্প্রতিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সমালোচকদের দাবি,ওই সময় দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় ৪৬৮টি থানায় হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে।অভিযোগ করা হচ্ছে,এসব ঘটনায় বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে।একইসঙ্গে মেট্রোরেল,পুলিশ বক্স, বিটিভি ভবন ও পদ্মা সেতুসহ বিপুল রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস হয়েছে,যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে।
৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতিও সমালোচনার মুখে।অভিযোগ রয়েছে,পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িঘরে ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি উঠেছে।
গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।তাদের অভিযোগ,প্রায় ৪৫টি মিডিয়া হাউসে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।ফলে সাংবাদিক,শিক্ষক, শিল্পী,সাহিত্যিক এমনকি বিভিন্ন পেশার মানুষকেও হয়রানি ও গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ক্ষমতার পালাবদলের প্রতিটি অধ্যায়েই যদি প্রতিশোধ,সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের দমন-পীড়ন দেখা যায়,তবে গণতন্ত্রের মূল চেতনাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।তাদের ভাষায়, “ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোই নৈতিক কর্তব্য।”
তাদের মতে,রাষ্ট্রের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.