মাজহারুল ইসলাম।।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)।তিনি ২০১১–২০১৬ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ছিলেন।সেই সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত ও চার্জশিট অনুমোদনের দায়িত্ব ছিল তার হাতে।
আজ যখন রাষ্ট্রপতির চেয়ারেই বসেছেন,তখন সেই মামলার দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার ব্যবহার অবশ্য বৈধ।কিন্তু রাজনৈতিক সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন—একই ব্যক্তি কি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলার তদারকি করেছেন,আর রাষ্ট্রপতি হয়ে সেই মামলার দণ্ড মওকুফ করাটা নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য?
এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তির রাজনীতি-আইনের দ্বন্দ্বকে প্রমাণ করছে না,বরং দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নও উন্মোচিত করেছে।আদালত খালেদা জিয়ার প্রতি অভিযোগকেই “প্রতিহিংসামূলক” হিসেবে অভিহিত করেছে।অথচ রাষ্ট্রপতি পদে বসার পর দণ্ড মওকুফের মাধ্যমে সে বিষয়কে মসৃণভাবে সমাধান করা হয়েছে।এটি কিছু অংশে রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভাঁজ ফুটিয়ে তোলে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার সবসময়ই নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের সাথে যুক্ত।প্রশাসনিক দায়িত্ব,বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে তা জনগণের আস্থাকে হুমকিতে ফেলে।সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও খালেদা জিয়ার মামলার ঘটনা তাই আমাদের সতর্ক করে—রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও ক্ষমতার ব্যবহার কখনও ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রভাবের অধীন হয়ে চলতে পারে।
এক্ষেত্রে আমাদের আশা থাকা উচিত,প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ,ন্যায়সঙ্গত ও জনগণের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে হোক।না হলে,রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতার অভাব দেশকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতায় ঠেলে দিতে পারে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.