নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষাপটে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন,এই ঘটনাপ্রবাহে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা “নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ”। ⚖️
দুদকে দায়িত্বকাল ও মামলার সময়কাল
তথ্য অনুযায়ী,মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।সেই সময়েই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান ছিল।
দুদকের কমিশনার হিসেবে সাহাবুদ্দিন ওই মামলাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও চার্জশিট অনুমোদনের কাঠামোর অংশ ছিলেন বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন।
মামলার সূচনা ও রায়
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা নিম্নরূপ—
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা
মামলা দায়ের: ৩ জুলাই ২০০৮
নিম্ন আদালতের রায়: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা
মামলা দায়ের: ৮ আগস্ট ২০১১
নিম্ন আদালতের রায়: ২৯ অক্টোবর ২০১৮
এই দুই মামলায় নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেওয়া হয়,যা দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর খালাস
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতে মামলাগুলোর নতুন করে শুনানি হয়।
২৭ নভেম্বর ২০২৪ হাইকোর্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে খালাস দেন।
৩ মার্চ ২০২৫ আপিল বিভাগও সেই খালাস বহাল রাখে।
একই দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাতেও তাকে খালাস দেওয়া হয় এবং আদালত মামলাটিকে “প্রতিহিংসামূলক” বলে মন্তব্য করেন।
রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের সিদ্ধান্ত
এর আগে,৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে খালেদা জিয়ার দণ্ড মওকুফের নির্দেশ দেন,যার ফলে তিনি মুক্তি পান।পরে খালেদা জিয়া আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে পূর্ণ খালাস লাভ করেন।
সমালোচকদের তীব্র প্রশ্ন
এই ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য—
যে ব্যক্তি দুদকের কমিশনার হিসেবে মামলার সময় দায়িত্বে ছিলেন,
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই মামলার দণ্ড মওকুফ করলেন,
এটি “রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন” তৈরি করেছে। 🤔
কিছু বিশ্লেষক আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, “বাংলাদেশের বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দ্বৈত ভূমিকার একটি বিতর্কিত উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা।”
তবে রাষ্ট্রপতির সমর্থকদের দাবি,সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা সম্পূর্ণ বৈধ,এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানবিক বিবেচনায়।
রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত
এই ঘটনাকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে এখনও আলোচনা ও বিতর্ক থামেনি।অনেকেই মনে করেন,দুদক,বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহারের সীমা ও নৈতিকতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও গভীর বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.