দিনাজপুর প্রতিনিধি।।ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে।গত দুই দিনে (সোমবার ও মঙ্গলবার) মোট ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিপো সূত্রে জানা গেছে,চলতি মার্চ মাসে এটি প্রথম চালান। এ মাসে আরও প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি হয়ে নির্মিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।প্রায় ১৩১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভারতের ভেতরে এবং বাকি ১২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অংশে অবস্থিত।
দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী,পাইপলাইন চালুর পর প্রথম তিন বছরে প্রতি বছর ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।পরবর্তী তিন বছরে এই সরবরাহ বাড়িয়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন করা হবে এবং পরবর্তী চার বছরে তা আরও বাড়িয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিপো সূত্রে আরও জানা যায়,দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বিপিসির এই রেলহেড ডিপো থেকে প্রতিদিন রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,গাইবান্ধা,রংপুর, দিনাজপুর,পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।ফলে ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বর্তমানে ডিপোতে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে।পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে তেল পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ দিন।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.