নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশে চলমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় প্রতি মাসে ১৫ হাজার টন জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।এরই মধ্যে দুটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে কিছুটা অস্থিরতা থাকলেও এখনই তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।তিনি জানান,জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন,জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় ঢাকাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও।যদিও সরকার পর্যাপ্ত মজুত থাকার কথা বলছে,তবুও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কাটেনি। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী,দেশে জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।দৈনিক অকটেনের চাহিদা এক হাজার ১০০ টন থেকে বেড়ে দুই হাজার টনে পৌঁছেছে।পেট্রোলের চাহিদাও বেড়েছে প্রায় এক হাজার টন।আর ডিজেলের চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে বর্তমানে ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
চাহিদার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে সরকার জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে লিটার নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে ডিজেল আমদানির পাশাপাশি সমুদ্রপথেও জ্বালানি আমদানি অব্যাহত রয়েছে।বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে মার্চ মাস নির্বিঘ্নে পার করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করছে।এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,সিঙ্গাপুরসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন,জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চীন সবসময় প্রস্তুত।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,বিদেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি বড় ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় নোঙর করেছে বলে জানা গেছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.