নিজস্ব প্রতিবেদক।।গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও জাহাঙ্গীর পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খানের কাছ থেকে আমব্রেলা ফাউন্ডেশন মাওনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী খামারি জানান,তিনি দীর্ঘদিন ধরে চারটি পোল্ট্রি ফার্মে প্রায় ১০ হাজার মুরগি লালন-পালন করে আসছিলেন। সম্প্রতি আইপিএস রোগে আক্রান্ত হয়ে তার খামারের প্রায় সব মুরগি মারা যায়।এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েন।
এ অবস্থায় আমব্রেলা ফাউন্ডেশন থেকে নেওয়া ৩ লাখ টাকার ঋণের ৩–৪টি কিস্তি বাকি থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির মাওনা ব্রাঞ্চের ম্যানেজার তাকে নতুন করে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।নতুন ঋণ অনুমোদনের কথা বলে পূর্বের ঋণের বকেয়া প্রায় ৭০ হাজার টাকা একসাথে পরিশোধ করতে তাকে চাপ দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি,২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নতুন ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আর কোনো ঋণ দেওয়া হয়নি।এতে করে তিনি সিপি কোম্পানির কাছে প্রায় ৬০ হাজার টাকার পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।ফলে সিপি কোম্পানি তার খামারে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে তার পোল্ট্রি ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“নতুন ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করা হয়েছে।কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণ না দেওয়ায় আমি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
এ বিষয়ে যুগান্তর বার্তা,মুক্তিযুদ্ধ ৭১ সংবাদ ও জনতার কণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে আমব্রেলা ফাউন্ডেশন মাওনা ব্রাঞ্চের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা ও কৈফিয়ত তলব করা হলেও অদ্যাবধি তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনি বিশ্লেষণ ⚖️
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পূর্বের ঋণ পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করে এবং পরে প্রতিশ্রুত ঋণ প্রদান না করে,তবে তা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪১৫ ও ৪২০ ধারার আওতায় প্রতারণা (Cheating) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ধারা ৪১৫: মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেললে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য।
ধারা ৪২০: প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে থানায় লিখিত অভিযোগ, আদালতে মামলা কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে,ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাথে এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.