পেকুয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।অভিযোগ রয়েছে,ঘটনার পর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে একের পর এক নাটক সাজানো হয় এবং তড়িঘড়ি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি,জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বিপক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।কিন্তু পরবর্তীতে সেই রিপোর্ট প্রত্যাশিতভাবে না হওয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। এমনকি তাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী,নির্যাতনের ফলে তাদের শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়।কিন্তু সেই অবস্থাতেই ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ডেকে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।ভুক্তভোগীদের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,এই ঘটনা সত্য হলে তা বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের একাধিক ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নির্যাতন ও নিষ্ঠুর আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন করা বা জোরপূর্বক শাস্তি প্রদান করা সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
এছাড়া দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৩০ ও ৩৩১ ধারায় স্বীকারোক্তি আদায় বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী শ্লীলতাহানির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
আইনজীবীরা আরও বলছেন,ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অপরাধ সংঘটিত হলে এবং তা সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায়।কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হন,সেই অবস্থায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হলে তা আইনের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইতোমধ্যে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মা ও মেয়ের প্রকাশিত ছবিতে তাদের শরীরে স্পষ্ট নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন,যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়,তবে এটি শুধু পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা নয়; বরং আইনকে ব্যবহার করে নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার একটি ভয়াবহ উদাহরণ।
এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্য,সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.