নিজস্ব প্রতিবেদক।।বাংলাদেশে বন্দিদের ক্ষেত্রে ডান্ডাবেড়ি বা হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের উদ্দেশ্য মূলত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ধর্ষ অপরাধী বা জঙ্গিদের পলায়ন ঠেকানো।তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মামলার আসামি কিংবা জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্ত ব্যক্তিদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কেন ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়
কারা কর্তৃপক্ষের মতে,জেল কোডের বিধি ৫৬ অনুযায়ী কোনো বন্দি বিপজ্জনক বা পালানোর ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হলে জেল সুপার তাকে ডান্ডাবেড়ি পরানোর নির্দেশ দিতে পারেন। সাধারণত জঙ্গি,সন্ত্রাসী বা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ আসামিদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়,যাতে পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর সুযোগ না থাকে।
প্যারোলে মুক্তির পরও ডান্ডাবেড়ি
আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী,প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাধীন নন; তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকেন।এ কারণে নিরাপত্তাজনিত যুক্তি দেখিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করে থাকে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঝালকাঠিতে এক নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে তার বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেলে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে।আদালত বলেছে,জঙ্গি বা শীর্ষ সন্ত্রাসী ছাড়া সাধারণ আসামি কিংবা রাজনৈতিক বন্দিদের ক্ষেত্রে গণহারে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার করা যাবে না।বিশেষ করে জানাজা বা মানবিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের আচরণকে আদালত “অমানবিক” ও “অসভ্যতা” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেন বন্ধ হচ্ছে না
আইনজীবীদের মতে,আদালতের পর্যবেক্ষণ থাকলেও ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি।ফলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ অনেক সময় পুরোনো জেল কোডের বিধান অনুসরণ করে নিজেদের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান
মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন,অপ্রয়োজনীয়ভাবে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার সংবিধানে প্রদত্ত মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।তারা জেল কোড সংশোধন করে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পষ্ট আইনি কাঠামো ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের বিতর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.