নিজস্ব প্রতিবেদক।।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষা শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আত্মোৎসর্গকারী বীরদের স্মরণ করে বক্তারা বলেন,একটি জাতির পরিচয়,ইতিহাস ও সংস্কৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হলো তার মাতৃভাষা।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলোচনায় বলা হয়,তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা শহরে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে বহু তরুণ প্রাণ হারান। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গের এই ঘটনা বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বক্তারা আরও বলেন,ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির চিন্তা,সংস্কৃতি ও বিশ্বদর্শনের বাহক।ভাষা সংরক্ষণ মানে একটি সভ্যতার জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা। বর্তমান বিশ্বে বহুভাষাবিদ্যা ডিজিটাল কূটনীতি,আন্তঃখাত শাসন ও বৈশ্বিক সংযোগ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মত প্রকাশ করা হয়।
১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।২০০০ সাল থেকে দিনটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে পালিত হয়ে আসছে।বিশেষজ্ঞদের মতে,বর্তমানে বিশ্বের আট হাজারের বেশি ভাষার একটি বড় অংশ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে,যা ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জরুরি করে তুলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আলোচনা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাপানের টোকিওতে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের (UNU) উদ্যোগে ভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন,ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং ভাষাগত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা বৈশ্বিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। মাতৃভাষা মানুষের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এই বার্তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়াই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল লক্ষ্য।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.