নিজস্ব প্রতিবেদক।।সড়কে যানবাহন থেকে অর্থ আদায়কে “সমঝোতার ভিত্তিতে নেওয়া টাকা, চাঁদা নয়” — সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।সমালোচকদের দাবি,এই বক্তব্য বাস্তবতা ও আইনি যুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন,প্রকৃত সমঝোতা তখনই হয় যখন দুই পক্ষ সমান স্বাধীন অবস্থানে থাকে এবং কোনো পক্ষ ‘না’ বললেও ক্ষতি বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে না।কিন্তু সড়কে চলাচলকারী চালকদের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ভিন্ন।অভিযোগ রয়েছে,নির্দিষ্ট স্থানে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালকদের দেরি করানো,বাধা দেওয়া বা নানা ধরনের ঝামেলায় ফেলার ঘটনা ঘটে। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়েই অর্থ প্রদান করেন, যা স্বেচ্ছায় দেওয়া নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে,বৈধভাবে কোনো অর্থ আদায় করতে হলে নির্দিষ্ট হার,অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ এবং রসিদের ব্যবস্থা থাকতে হয়।কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে এসবের কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নেই,সেখানে অর্থ আদায়কে “সমঝোতা” বলা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
সমালোচকদের ভাষ্য,ক্ষমতার প্রভাব বা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় করলে তার প্রকৃতি পরিবর্তিত হয় না।শব্দ পরিবর্তন করে বাস্তবতাকে বৈধতা দেওয়া যায় না বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে মন্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষে কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন যে, পরিবহন খাতের কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়।তবে বিরোধীরা বলছেন,এই যুক্তি অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং সড়ক পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে।
Discover more from jugantorbarta.com
Subscribe to get the latest posts sent to your email.