ভুল চিকিৎসায় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি—অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ; স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা
বরিশাল ব্যুরো:বরিশালে কথিত ভুয়া চিকিৎসা,প্রতারণা ও ভুল চিকিৎসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডা. খোন্দকার মঞ্জুরুল ইমাম শুভ্র নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী মোঃ আল আমিন চৌকিদারের দাবি,সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,ডান পাশ অবশ হয়ে যাওয়া ও হাঁটার সময় পায়ের মাংসপেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার উপসর্গ নিয়ে আল আমিন চৌকিদার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) বরিশালে চিকিৎসা নিতে যান।হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানরত এক দালালের মাধ্যমে তাকে দ্রুত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের পূর্ব গেইট সংলগ্ন নিউ ল্যাবটেক মেডিকেল সার্ভিসেস নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
সেখানে ডা. খোন্দকার মঞ্জুরুল ইমাম শুভ্র চিকিৎসা প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীর দাবি,স্নায়বিক সমস্যার যথাযথ পরীক্ষা যেমন MRI বা বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন ছাড়াই CBC, ESR, Electrolyte, Uric Acid, X-Ray ও USGসহ একাধিক পরীক্ষা করানো হয় এবং বিভিন্ন ওষুধ সেবনের পর তার অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি ঘটে।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি পুনরায় শেবাচিম হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসা নেন। সেখানে দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পূর্ববর্তী চিকিৎসা যথাযথ স্নায়বিক মূল্যায়ন ছাড়া দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এবং MRIসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ,অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট প্রায় ২১ হাজার ৭০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।বর্তমানে তিনি চলাচলে গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,অভিযুক্ত ব্যক্তি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের জন্মনিবন্ধন শাখায় কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন,পরীক্ষা রিপোর্ট,টাকা নেওয়ার রশিদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষিত রয়েছে এবং এসব দলিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বরিশালের সিভিল সার্জন,জেলা প্রশাসক,বিভাগীয় কমিশনার, শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতারণামূলক চিকিৎসা বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।



![]()

















































সর্বশেষ সংবাদ :———