নিজস্ব প্রতিবেদক।।নির্বাচনী হলফনামায় ব্যারিস্টার আরমান তার ব্যক্তিগত সম্পদ মাত্র ২ কোটি টাকা দেখিয়েছেন।কিন্তু সম্প্রতি প্রমাণ-সাপেক্ষ চিঠিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি “নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস” কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন,যার প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১০০০ কোটি টাকা,যার মধ্যে প্রযুক্তি খরচ alone ৬০০ কোটি টাকা।
চিঠিতে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ফরেনসিক অডিটের অনুমতি চেয়েছেন,যাতে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।চিঠির ভাষা প্রফেশনাল হলেও,যে পরিমাণ নগদ বিনিয়োগের পরিকল্পনা দেখানো হয়েছে,তা তার ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে স্পষ্টভাবে মেলেনি,যা রাজনৈতিক,সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ:
নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদকে ন্যূনতম দেখানো এবং পরবর্তীতে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখা রাজনৈতিক অসঙ্গতি সৃষ্টি করে।
এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তুলেছে।জনগণ ও ভোটারদের বিশ্বাস ও আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিকভাবে,এটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়েছে কারণ নির্বাচনী ঘোষণার সঙ্গে মিল না থাকা আর্থিক কর্মকাণ্ড জনগণের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ:
১০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ একটি বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেন।নির্বাচনী হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদ বিবেচনা করলে, বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছে।
বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফরেনসিক অডিট জরুরি হলেও, প্রাথমিক ঘোষিত সম্পদের অসঙ্গতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও উপযুক্ত বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্ন তুলেছে।
সংবিধান ও আইনগত দিক:
বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুসারে,প্রার্থীকে তার সম্পদ যথাযথভাবে ঘোষণা করতে হয়।যদি সম্পদের বড় ভঙ্গিমা দেখানো না হয়, তা কঠোর আইনি ব্যাধি ও প্রতারণার শ্রেণিতে পড়তে পারে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বড় আর্থিক লেনদেনের জন্য সম্পদের সঠিক উৎস ও বৈধতা যাচাই অপরিহার্য।
সংক্ষিপ্ত মন্তব্য:
ব্যারিস্টার আরমানের ২ কোটি টাকার নির্বাচনী ঘোষণা বনাম ১০০০ কোটির নগদ বিনিয়োগের প্রস্তাব রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইনি দিক থেকে বিতর্কিত।এটি শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা বা সম্পদের স্বচ্ছতার প্রশ্ন নয়,বরং দেশের নাগরিক আস্থা,আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনী আইনপ্রণালীর প্রতি জনগণের অবিচ্ছেদ্য নজরকেও প্রভাবিত করছে।
তথ্যসূত্র:
মীর আহমেদ বিন কাসেমের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে লেখা চিঠি, MABQ/BB/INFO/2026/001, ০৮/০২/২০২৬।

![]()

















































সর্বশেষ সংবাদ :———