নিজস্ব প্রতিবেদক।।১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহপরিচারিকাকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান,তার স্ত্রী বিথীসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে জেল হাজতে আটক রাখার আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মামলা নং-০৪ (তারিখ ০১/০২/২০২৬) অনুযায়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৪(২)(খ)/৩০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
যেভাবে ঘটনাটি ঘটে
মামলার এজাহার অনুযায়ী,ভিকটিম শিশুটির মা একজন হোটেল কর্মচারী।প্রায় সাত মাস আগে শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তারক্ষীর মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে শিশুটিকে বাসায় কাজের জন্য নেওয়া হয়।অভিযুক্ত দম্পতি শিশুটির দেখভাল,ভবিষ্যৎ ও বিবাহের খরচ বহনের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জুন ২০২৫ সালের শেষ দিকে শিশুটিকে অভিযুক্তদের বাসায় রেখে যান তার মা।শুরুতে নিয়মিত মেয়ের খোঁজ নিতে পারলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুরে অভিযুক্ত বিথী ফোন করে শিশুটি অসুস্থ বলে জানালে সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে ফেরত দেওয়া হয়।শিশুটিকে বুঝে নেওয়ার পর তার শরীরের দুই হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও দগ্ধ চিহ্ন দেখতে পান মা।
হাসপাতালে ভর্তি ও নির্যাতনের অভিযোগ
পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি জানায়,গত নভেম্বর মাস থেকে অভিযুক্ত শফিকুর রহমান,তার স্ত্রী বিথীসহ আরও কয়েকজন তাকে মারধর করতেন এবং গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন।
চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
গ্রেপ্তার ও জামিন বিরোধিতা
মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উত্তরার বাসা থেকে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান,আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন এবং জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এজন্য জামিনের ঘোর বিরোধিতা করা হয়।
দুগ্ধপোষ্য সন্তানসহ আসামি কারাগারে
আদালতে প্রেরণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,আসামি রুপালী খাতুনের দুইটি দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে।অভিভাবক না থাকায় শিশু দুটিকে মায়ের সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

















































সর্বশেষ সংবাদ :———