নিজস্ব প্রতিবেদক।।সাবেক হুইপ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরওয়ার বরিশালের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নাম।পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া,জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সিটি মেয়র পদে সফল মেয়াদকাল—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ এই নেতা এবারও আলোচনায়,তবে ভিন্ন কারণে।বারবার নির্বাচনে জয় পেলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জন্ম, শিক্ষা ও রাজনৈতিক উত্থান
১৯৫৭ সালের ১ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন মজিবুর রহমান সরওয়ার।পেশায় তিনি একজন আইনজীবী।ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে জাতীয় রাজনীতিতে তার দৃশ্যমান উত্থান ঘটে।১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর বরিশালে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
বিএনপিতে অবস্থান
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।বর্তমানে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তার কারণে তাকে দলটির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংসদ সদস্য ও হুইপ হিসেবে দায়িত্ব
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন—১৯৯১, ১৯৯৮ সালের উপনির্বাচন,২০০১, ২০০৮ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে।
২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন,যা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন পদ।সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও দলীয় সমন্বয়ে সে সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।২০০৩ সালের ২৪ এপ্রিল বরিশাল সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।তার মেয়াদকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ আলোচিত হয়।
মামলা ও জেল জীবন
রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময় তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন।পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রিসভায় না থাকা নিয়ে আলোচনা
দলীয় পদমর্যাদা,নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও এবারও মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে।একই সময়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই কয়েকজন নেতা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় তুলনামূলক প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,মন্ত্রিসভা গঠনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আঞ্চলিক ভারসাম্য,দলীয় কৌশল,জোট রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ফলে অনেক সময় অভিজ্ঞ নেতারাও অপেক্ষায় থাকেন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের।
সম্ভাবনার আলোচনা
সরকারি ও দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,শিগগিরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে।দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন—বিশেষ করে ভোলা-বরিশাল, লক্ষ্মীপুর-ভোলা ও পটুয়াখালী-ভোলা সড়ক সংযোগ এবং বরিশাল বিভাগের ৩৭টি সেতুসহ বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে পরিকল্পনা বা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে তার নাম সম্ভাব্য আলোচনায় রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বারবার নির্বাচনী জয় শেষে অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরওয়ার কি শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন, নাকি অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে।
![]()






















































সর্বশেষ সংবাদ :———