নিজস্ব প্রতিবেদক।।বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর, বিচারককে হুমকি এবং বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ জন সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।একই ঘটনায় হাইকোর্ট নয়জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে।মামলার প্রধান আসামি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এস এম সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
📌 ঘটনার বিস্তারিত
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে একটি জামিন মামলার শুনানির সময় আইনজীবীরা হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
আদালতের বেঞ্চ,টেবিল,মাইক্রোফোন ভাঙচুর করা হয় এবং কজলিস্ট ও মামলা নথি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
আইনজীবীরা বিচারকের উদ্দেশ্যে হুমকি ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
সরকারি কর্মচারীদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিচারক নিরাপত্তার কারণে এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
⚖️ মামলা ও আইনি ব্যবস্থা
থানা: কোতয়ালী মডেল থান, বরিশাল
মামলা নম্বর: ৪৬/২০২৬, জিআর নং ১০৫
আইন:
৪/৫ ধারা, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২
১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮, ৩৫৩ ধারা, দণ্ডবিধি ১৮৬০
প্রধান আসামি: এস এম সাদিকুর রহমান লিংকন
মামলায় আরও ১১ জন আইনজীবীসহ আনুমানিক ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
👮 গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ
পুলিশ জানায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১২:১৫ মিনিটে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে সাদিকুর রহমান লিংকনকে যৌথবাহিনীর উপস্থিতিতে গ্রেফতার করা হয়।
পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার বা তদন্তে বাধা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
🧾 তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ
বরিশাল মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
আইনজীবীরা বিচারকের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের পেশাদার সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও বার কাউন্সিলকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রীম কোর্টও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনার প্রতি “অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত” উল্লেখ করে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।
📌 হাইকোর্টের পদক্ষেপ
হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন।
১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান।
রুল জারি হওয়া আইনজীবীরা হলেন:
সাদিকুর রহমান লিংকন, মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ, হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
🔍 বিশ্লেষণ
আদালতকক্ষে আইনজীবীর হট্টগোল বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য শঙ্কাজনক।
পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বার কাউন্সিলের মাধ্যমে সনদ বাতিলের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে আদালতের মর্যাদা রক্ষা করা হচ্ছে।
বরিশাল আদালতের এই ঘটনা আইনজীবী সমাজকে সতর্ক করেছে যে, বিচারের পথে বাধা প্রদানের চেষ্টা করলে পেশাগত শাস্তি এবং সনদ বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে।
![]()






















































সর্বশেষ সংবাদ :———