নিজস্ব প্রতিবেদক।।দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৭ মাসে একটি গোষ্ঠী,বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে ভয়াবহ নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।বিভিন্ন স্থানে মব সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারাও নজিরবিহীনভাবে নাজেহালের শিকার হয়েছেন।
এই নৈরাজ্য মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সদস্য প্রাণ হারানোর দাবি উঠে,এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীও বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়ে।ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।নির্বাচনে বিএনপি সর্বাধিক আসন লাভ করে সরকার গঠন করেছে।নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ। সরকার গঠনের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগান সামনে এনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।তবে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন এখনো স্পষ্ট নয় বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে এবং বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার হবে?
রাজনৈতিক অস্থিরতা,নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা,কথিত ভুয়া মামলা এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশের কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায় এবং সদস্যদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দায়িত্ব পালনকালে হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার কারণে অনেক সদস্য এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এর মধ্যে সরকার গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।নবনিযুক্ত আইজিপির কাছে প্রত্যাশা—তিনি মাঠপর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ,কারণ যে কোনো সরকারের ভাবমূর্তি ও জননিরাপত্তা অনেকাংশেই পুলিশের কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা পুলিশের প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনার প্রধান শর্ত। নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ,অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা জরুরি। পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা,আবাসন সুবিধা,পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়ানো হলে সদস্যদের কর্মদক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল (PRB) ও ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।অতীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ থানার কার্যক্রমকে গতিশীল রাখত এবং অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতো।সেই সংস্কৃতি পুনরায় চালু করা জরুরি।
পুলিশের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন,বাহিনীর মনোবল পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশ সদস্যদের হত্যাসহ সকল সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাও সময়ের দাবি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই—এটাই হতে পারে স্থিতিশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থার একমাত্র পথ।
![]()




















































সর্বশেষ সংবাদ :———